Dhaka ০৯:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দলিল আছে কিন্তু দখল নেই, রেকর্ডও নেই: জমি কি আদৌ পাওয়া যাবে?

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৫২:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
  • ৪৮৩ Time View

বাংলাদেশে এমন বহু জমির মালিক ও উত্তরাধিকারী আছেন, যাদের হাতে জমির বৈধ দলিল থাকা সত্ত্বেও রেকর্ডে নাম নেই এবং বাস্তবের দখলও তাদের হাতে নেই। বিশেষত যারা দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন বা জমির হালনাগাদ খোঁজ রাখেননি, তাদের জন্য এই ধরনের জটিলতায় পড়াটা অস্বাভাবিক নয়। এমন পরিস্থিতিতে জমির মালিকানা প্রতিষ্ঠা এবং দখল পুনরুদ্ধার করার জন্য আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা অপরিহার্য।
আইন অনুযায়ী, শুধু দলিল থাকলেই জমি পাওয়ার সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায় না, বরং সঠিক আইনি পথে চললে মালিকানা ও দখল দুটোই ফিরে পাওয়া সম্ভব।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের জমি ফিরে পেতে দুটি প্রধান ধাপ অতিক্রম করতে হয়: ১. আদালতের মাধ্যমে মালিকানা প্রমাণ করা। ২. দখল পুনরুদ্ধার করা।
যদি দলিল থাকা সত্ত্বেও জমির নামজারি না হয় এবং সরকারি রেকর্ডে অন্য কারও নাম থেকে যায়, তবে আদালতের মাধ্যমে আপনার প্রকৃত মালিকানা প্রমাণ করতে হবে।
জমির মালিকানা প্রমাণের জন্য আবেদনের সময়সীমার ওপর ভিত্তি করে দুটি ভিন্ন আদালতে মামলা করতে হয়:
ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল (LST): যদি সরকারি পরচা বা খতিয়ান প্রকাশের দুই বছরের মধ্যে রেকর্ড সংশোধনের জন্য আবেদন করা হয়, তবে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল-এ মামলা করতে হবে।
সহকারী জজ আদালত: যদি দুই বছর সময়সীমা পার হয়ে যায় অথবা আপনি রেকর্ড হওয়ার বিষয়টি আগে না জেনে থাকেন, সেক্ষেত্রে সহকারী জজ আদালতে ‘ঘোষণামূলক মামলা’ (Declaratory Suit) দায়ের করতে হবে। এই মামলার উদ্দেশ্য হলো আদালতের মাধ্যমে নিজেকে জমির প্রকৃত মালিক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।
একবার আদালতের রায়ের মাধ্যমে মালিকানা প্রমাণিত হলে এবং নামজারি সম্পন্ন হলে, পরবর্তী ধাপ হলো দখল পুনরুদ্ধার।
এই কাজের জন্য অনুসরণ করতে হবে সদ্য প্রণীত ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩’ এর ধারা ৮। এই আইনের আওতায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গঠিত ভূমি প্রতিকার আদালতে মামলা দায়ের করতে হবে।
দখল পুনরুদ্ধারের জন্য নিম্নোক্ত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা যেতে পারে:
১. আদালতের আদেশ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ নির্ধারিত ফরমে ভূমি প্রতিকার আদালতে আবেদন করতে হবে।
২. ম্যাজিস্ট্রেট আবেদনকারীর মালিকানা যাচাইয়ের জন্য তদন্ত পরিচালনা করবেন।
৩. যাচাই শেষে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে ম্যাজিস্ট্রেট সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারবেন।
আইনজীবীরা বলছেন, যথাযথ কাগজপত্র, আদালতের সঠিক নির্দেশনা এবং সময়মতো আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করলে দলিলধারী মালিক তার জমি ও দখল উভয়ই ফিরে পেতে সক্ষম হবেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

দলিল আছে কিন্তু দখল নেই, রেকর্ডও নেই: জমি কি আদৌ পাওয়া যাবে?

Update Time : ১১:৫২:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশে এমন বহু জমির মালিক ও উত্তরাধিকারী আছেন, যাদের হাতে জমির বৈধ দলিল থাকা সত্ত্বেও রেকর্ডে নাম নেই এবং বাস্তবের দখলও তাদের হাতে নেই। বিশেষত যারা দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন বা জমির হালনাগাদ খোঁজ রাখেননি, তাদের জন্য এই ধরনের জটিলতায় পড়াটা অস্বাভাবিক নয়। এমন পরিস্থিতিতে জমির মালিকানা প্রতিষ্ঠা এবং দখল পুনরুদ্ধার করার জন্য আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা অপরিহার্য।
আইন অনুযায়ী, শুধু দলিল থাকলেই জমি পাওয়ার সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায় না, বরং সঠিক আইনি পথে চললে মালিকানা ও দখল দুটোই ফিরে পাওয়া সম্ভব।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের জমি ফিরে পেতে দুটি প্রধান ধাপ অতিক্রম করতে হয়: ১. আদালতের মাধ্যমে মালিকানা প্রমাণ করা। ২. দখল পুনরুদ্ধার করা।
যদি দলিল থাকা সত্ত্বেও জমির নামজারি না হয় এবং সরকারি রেকর্ডে অন্য কারও নাম থেকে যায়, তবে আদালতের মাধ্যমে আপনার প্রকৃত মালিকানা প্রমাণ করতে হবে।
জমির মালিকানা প্রমাণের জন্য আবেদনের সময়সীমার ওপর ভিত্তি করে দুটি ভিন্ন আদালতে মামলা করতে হয়:
ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল (LST): যদি সরকারি পরচা বা খতিয়ান প্রকাশের দুই বছরের মধ্যে রেকর্ড সংশোধনের জন্য আবেদন করা হয়, তবে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল-এ মামলা করতে হবে।
সহকারী জজ আদালত: যদি দুই বছর সময়সীমা পার হয়ে যায় অথবা আপনি রেকর্ড হওয়ার বিষয়টি আগে না জেনে থাকেন, সেক্ষেত্রে সহকারী জজ আদালতে ‘ঘোষণামূলক মামলা’ (Declaratory Suit) দায়ের করতে হবে। এই মামলার উদ্দেশ্য হলো আদালতের মাধ্যমে নিজেকে জমির প্রকৃত মালিক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।
একবার আদালতের রায়ের মাধ্যমে মালিকানা প্রমাণিত হলে এবং নামজারি সম্পন্ন হলে, পরবর্তী ধাপ হলো দখল পুনরুদ্ধার।
এই কাজের জন্য অনুসরণ করতে হবে সদ্য প্রণীত ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩’ এর ধারা ৮। এই আইনের আওতায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গঠিত ভূমি প্রতিকার আদালতে মামলা দায়ের করতে হবে।
দখল পুনরুদ্ধারের জন্য নিম্নোক্ত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা যেতে পারে:
১. আদালতের আদেশ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ নির্ধারিত ফরমে ভূমি প্রতিকার আদালতে আবেদন করতে হবে।
২. ম্যাজিস্ট্রেট আবেদনকারীর মালিকানা যাচাইয়ের জন্য তদন্ত পরিচালনা করবেন।
৩. যাচাই শেষে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে ম্যাজিস্ট্রেট সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারবেন।
আইনজীবীরা বলছেন, যথাযথ কাগজপত্র, আদালতের সঠিক নির্দেশনা এবং সময়মতো আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করলে দলিলধারী মালিক তার জমি ও দখল উভয়ই ফিরে পেতে সক্ষম হবেন।