Dhaka ১০:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কবে কমবে লোডশেডিং, জানা গেল

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৪৪:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
  • ২২১ Time View

আগামী ২৮ এপ্রিলের মধ্যে আদানির দ্বিতীয় ইউনিট, এসএস পাওয়ার এবং আরএনপিএলের একটি ইউনিট উৎপাদনে এলে বিদ্যুতের উৎপাদন ১৯০০ মেগাওয়াট বাড়ানো যাবে। তখন লোডশেডিং কমে আসবে।’ বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সচিবালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্ম সচিব উম্মে রেহানা এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, মূলত জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে। তাই বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং হচ্ছে। গরমে সারা দেশে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে। সে তুলনায় আপাতত বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানো যাচ্ছে না। তাই বৃহস্পতিবার (গতকাল) সারা দেশে ৩ হাজার মেগাওয়াটের মতো লোডশেডিং ছিল।

এখন দেশে বিদ্যুতের চাহিদা কত? একেক সংস্থা একেক তথ্য দিচ্ছে-এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্ম সচিব বলেন, এখন বিদ্যুতের চাহিদা পিক আওয়ারে ১৭ হাজার মেগাওয়াট। আর সরবরাহ করা যাচ্ছে ১৪ হাজার মেগাওয়াট। তবে সরকার কৃষি সেচ এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ বেশকিছু বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে যাচ্ছে।

শিগগিরই শহর ও গ্রামের মধ্যে বিদ্যুতের লোড ঠিক করে দেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

উম্মে রেহানা বলেন, আগামী দুই সপ্তাহ দেশের খাদ্যশস্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এ সময়ে ধান পাকবে। তাই এ সময়টা সেচে গুরুত্বের সঙ্গে বিদ্যুৎ দিতে হবে।

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গত বছরের এ সময়ে কোনো লোডশেডিং হয়নি। এবার গরম কিছুটা বেড়েছে। তাহলে কি এবার ব্যাপক লোডশেডিং হবে-এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যন্ত্রের তো কোনো বিশ্বাস নেই। এবার অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেশিন ট্রিপ করেছে। বিশেষ করে আদানিসহ বিভিন্ন ইউনিটের ট্রিপ করেছে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে।

পুরো বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা এবং পরিকল্পনায় আমলাদের ব্যর্থতা আছে কি না, এই প্রশ্নের জবাবে যুগ্ম সচিব উম্মে রেহানা বলেন, বিদ্যুৎ সচিব ৭ এপ্রিল রাতে জুমে বৈঠক করে এবারের বিদ্যুৎ সরবরাহের সব ঠিক করেছেন। আমলাদের কোনো ব্যর্থতা নেই।

তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে ঠিকমতো এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) সরবরাহ করা যাচ্ছে না। একইভাবে ফার্নেস অয়েল এবং কয়লা সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই অনেক কেন্দ্রে ঠিকমতো জ্বালানি সরবরাহ দেওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ১২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা আছে সরকারের। এজন্য প্রয়োজন ২০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস। কিন্তু দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৯২ কোটি ঘনফুট গ্যাস। এ কারণে এখন গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্র থেকে উৎপাদন হচ্ছে ৬ হাজার মেগাওয়াটের কম। এমনকি বিদ্যুৎকেন্দ্রে দৈনিক ১২০ কোটি ঘনফুট গ্যাস দেওয়া হলে ৭ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যেত। কিন্তু সেটাও দেওয়া হচ্ছে না। তাই সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও লোডশেডিং বাড়ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

কবে কমবে লোডশেডিং, জানা গেল

Update Time : ০১:৪৪:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

আগামী ২৮ এপ্রিলের মধ্যে আদানির দ্বিতীয় ইউনিট, এসএস পাওয়ার এবং আরএনপিএলের একটি ইউনিট উৎপাদনে এলে বিদ্যুতের উৎপাদন ১৯০০ মেগাওয়াট বাড়ানো যাবে। তখন লোডশেডিং কমে আসবে।’ বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সচিবালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্ম সচিব উম্মে রেহানা এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, মূলত জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে। তাই বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং হচ্ছে। গরমে সারা দেশে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে। সে তুলনায় আপাতত বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানো যাচ্ছে না। তাই বৃহস্পতিবার (গতকাল) সারা দেশে ৩ হাজার মেগাওয়াটের মতো লোডশেডিং ছিল।

এখন দেশে বিদ্যুতের চাহিদা কত? একেক সংস্থা একেক তথ্য দিচ্ছে-এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্ম সচিব বলেন, এখন বিদ্যুতের চাহিদা পিক আওয়ারে ১৭ হাজার মেগাওয়াট। আর সরবরাহ করা যাচ্ছে ১৪ হাজার মেগাওয়াট। তবে সরকার কৃষি সেচ এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ বেশকিছু বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে যাচ্ছে।

শিগগিরই শহর ও গ্রামের মধ্যে বিদ্যুতের লোড ঠিক করে দেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

উম্মে রেহানা বলেন, আগামী দুই সপ্তাহ দেশের খাদ্যশস্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এ সময়ে ধান পাকবে। তাই এ সময়টা সেচে গুরুত্বের সঙ্গে বিদ্যুৎ দিতে হবে।

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গত বছরের এ সময়ে কোনো লোডশেডিং হয়নি। এবার গরম কিছুটা বেড়েছে। তাহলে কি এবার ব্যাপক লোডশেডিং হবে-এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যন্ত্রের তো কোনো বিশ্বাস নেই। এবার অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেশিন ট্রিপ করেছে। বিশেষ করে আদানিসহ বিভিন্ন ইউনিটের ট্রিপ করেছে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে।

পুরো বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা এবং পরিকল্পনায় আমলাদের ব্যর্থতা আছে কি না, এই প্রশ্নের জবাবে যুগ্ম সচিব উম্মে রেহানা বলেন, বিদ্যুৎ সচিব ৭ এপ্রিল রাতে জুমে বৈঠক করে এবারের বিদ্যুৎ সরবরাহের সব ঠিক করেছেন। আমলাদের কোনো ব্যর্থতা নেই।

তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে ঠিকমতো এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) সরবরাহ করা যাচ্ছে না। একইভাবে ফার্নেস অয়েল এবং কয়লা সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই অনেক কেন্দ্রে ঠিকমতো জ্বালানি সরবরাহ দেওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ১২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা আছে সরকারের। এজন্য প্রয়োজন ২০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস। কিন্তু দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৯২ কোটি ঘনফুট গ্যাস। এ কারণে এখন গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্র থেকে উৎপাদন হচ্ছে ৬ হাজার মেগাওয়াটের কম। এমনকি বিদ্যুৎকেন্দ্রে দৈনিক ১২০ কোটি ঘনফুট গ্যাস দেওয়া হলে ৭ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যেত। কিন্তু সেটাও দেওয়া হচ্ছে না। তাই সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও লোডশেডিং বাড়ছে।