Dhaka ০১:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যার এক ফোনেই পি’ছু হ’টে যুক্তরাষ্ট্র

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৫৪:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
  • ২৫৭ Time View

ইসলামাবাদে আলোচনা চলাকালে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে ফোন করেছিলেন। সেই ফোনেই আলোচনার গতি পাল্টে যায় বলে অভিযোগ করেছে ইরান।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়েদ আব্বাস আরাগচি এক্সে লিখেছেন, ‘বৈঠকের মাঝে নেতানিয়াহুর ভ্যান্সকে করা ফোন মার্কিন-ইরান আলোচনার মনোযোগ সরিয়ে ইসরাইলের স্বার্থের দিকে নিয়ে গেছে। যুদ্ধে যা পারেনি, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার টেবিলে সেটা পেতে চেয়েছে।’ তার এই পোস্টে ইঙ্গিত মিলছে, শুরুতে জেডি ভ্যান্সের প্রতিনিধি দল আলোচনায় আগ্রহী থাকলেও সেই ফোনকলের পরই সুর বদলে ফেলে।

তিনি বলেন, ইরান সদিচ্ছা নিয়েই পাকিস্তানে আলোচনায় গিয়েছিল। ভ্যান্সের বিদায়ের আগের সংবাদ সম্মেলনকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ বলেছেন তিনি। আরাগচি জানিয়েছেন, ইরান ‘জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং প্রস্তুত।’ ওয়াশিংটন নেতানিয়াহুর ফোনের বিষয়টি নিশ্চিত বা অস্বীকার করেনি।

তেহরান ও আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ইসলামাবাদে মার্কিন অবস্থান ছিল অগ্রহণযোগ্য। ওয়াশিংটন শুধু হরমুজ প্রণালিতে মুক্ত নৌচলাচলই চায়নি, একই সাথে ইরানের পুরো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি বন্ধ ও বিদ্যমান মজুদ হস্তান্তরের দাবিও করেছে। ভ্যান্স এই শর্তগুলো ‘চূড়ান্ত ও সেরা প্রস্তাব’ হিসেবে উপস্থাপন করেন, যা ইরান প্রত্যাখ্যান করেছে।

আলোচনা ভেঙে পড়ায় তেলের বাজারে আবার অনিশ্চয়তা ফিরে এসেছে। ৯ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির আগে ব্রেন্ট ক্রুড ব্যারেলপ্রতি ১১৯ ডলারের উপরে ছিল। যুদ্ধবিরতিতে দাম ৯৫ ডলারে নেমেছিল। কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন, চুক্তি না হলে আবার তিন অঙ্কের দামে ফিরে যাবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

যার এক ফোনেই পি’ছু হ’টে যুক্তরাষ্ট্র

Update Time : ১১:৫৪:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

ইসলামাবাদে আলোচনা চলাকালে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে ফোন করেছিলেন। সেই ফোনেই আলোচনার গতি পাল্টে যায় বলে অভিযোগ করেছে ইরান।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়েদ আব্বাস আরাগচি এক্সে লিখেছেন, ‘বৈঠকের মাঝে নেতানিয়াহুর ভ্যান্সকে করা ফোন মার্কিন-ইরান আলোচনার মনোযোগ সরিয়ে ইসরাইলের স্বার্থের দিকে নিয়ে গেছে। যুদ্ধে যা পারেনি, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার টেবিলে সেটা পেতে চেয়েছে।’ তার এই পোস্টে ইঙ্গিত মিলছে, শুরুতে জেডি ভ্যান্সের প্রতিনিধি দল আলোচনায় আগ্রহী থাকলেও সেই ফোনকলের পরই সুর বদলে ফেলে।

তিনি বলেন, ইরান সদিচ্ছা নিয়েই পাকিস্তানে আলোচনায় গিয়েছিল। ভ্যান্সের বিদায়ের আগের সংবাদ সম্মেলনকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ বলেছেন তিনি। আরাগচি জানিয়েছেন, ইরান ‘জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং প্রস্তুত।’ ওয়াশিংটন নেতানিয়াহুর ফোনের বিষয়টি নিশ্চিত বা অস্বীকার করেনি।

তেহরান ও আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ইসলামাবাদে মার্কিন অবস্থান ছিল অগ্রহণযোগ্য। ওয়াশিংটন শুধু হরমুজ প্রণালিতে মুক্ত নৌচলাচলই চায়নি, একই সাথে ইরানের পুরো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি বন্ধ ও বিদ্যমান মজুদ হস্তান্তরের দাবিও করেছে। ভ্যান্স এই শর্তগুলো ‘চূড়ান্ত ও সেরা প্রস্তাব’ হিসেবে উপস্থাপন করেন, যা ইরান প্রত্যাখ্যান করেছে।

আলোচনা ভেঙে পড়ায় তেলের বাজারে আবার অনিশ্চয়তা ফিরে এসেছে। ৯ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির আগে ব্রেন্ট ক্রুড ব্যারেলপ্রতি ১১৯ ডলারের উপরে ছিল। যুদ্ধবিরতিতে দাম ৯৫ ডলারে নেমেছিল। কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন, চুক্তি না হলে আবার তিন অঙ্কের দামে ফিরে যাবে।