০২:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ২২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হিন্দু পুরুষদেরই বেছে বেছে মেরেছে: নিহত বিতানের স্ত্রী

“আমি আমার হাজবেন্ড ছিলাম। ওখানে কিছু আওয়াজ হচ্ছিল। তো এবার আমি আমার হাজবেন্ডকে জিজ্ঞেস করেছি, ‘হ্যাঁ গো, এগুলো কিসের আওয়াজ হচ্ছে?’ তো ও বলছে, ‘হতে পারে ফায়ার ক্র্যাকারস, কেউ খেলছে, টেলচে হবে। বা মিলিটারিরা অনেক সময় প্র্যাকটিস করে।’ আমরা বুঝতেই পারিনি। হুট করে দেখলাম, আমার বাচ্চাটাকে টেনে দেখছি, ‘আ’ করে চেঁচাতে যাচ্ছে। আমি না বুঝতে পারিনি, কী হল? হঠাৎ কী হল?
আমি পেছনে যখন ঘুরি, তখন দেখি ডিস্টেন্সে একটা লোক রান করছে, এভাবে মেরে দিল। আমাদের পেছনে যারা ছিল, তারা এরকম করে মারলো। অনেকজন পড়ে গেল। আমি আর আমার হাজবেন্ডরা সবাই গিয়ে একটা জায়গায় বসে পড়লাম। আর পেছনে অনেকজন ছিল, তারা বলল, ‘সবাই হেড ডাউন কর, সবাই হেড ডাউন করো।’
এবার আমার বাচ্চা তো ছোট, ও তো এগুলো শুনে প্রচণ্ড আওয়াজ হচ্ছে, ও বলছে, ‘মামা, ফায়ার গান! ইট ইস পটাস সাউন্ড, ইট’স সো লাউড সাউন্ড!’ কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে এখানে একটা গুলি করে, পুরোপুরি শুধু মেনসদের ওরা টার্গেট করেছিল। ছেলেগুলোকেই মারবে। তারপরে সাইড হয়ে এখানটা গুলি করে, আর এইখানটা লাগে।

তখন দেখি, আমার হাসবেন্ড অলরেডি ডেড। অলরেডি ওর মাথা পড়ে গেছে। তখন আমি ভন্সলেস আছি, ওকে উঠানো যাবে না…”

— নিহত বিতান চক্রবর্তীর স্ত্রী রিপাবলিক বাংলাকে এই করুণ বর্ণনা দেন। উল্লেখ্য, জম্মু ও কাশ্মীরের পাহেলগামে ঘুরতে আসা পর্যটকদের ওপর সন্ত্রাসী হামলায় প্রাণ হারান পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা বিতান চক্রবর্তী।

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

হিন্দু পুরুষদেরই বেছে বেছে মেরেছে: নিহত বিতানের স্ত্রী

আপডেট সময়ঃ ০৮:২২:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৫

“আমি আমার হাজবেন্ড ছিলাম। ওখানে কিছু আওয়াজ হচ্ছিল। তো এবার আমি আমার হাজবেন্ডকে জিজ্ঞেস করেছি, ‘হ্যাঁ গো, এগুলো কিসের আওয়াজ হচ্ছে?’ তো ও বলছে, ‘হতে পারে ফায়ার ক্র্যাকারস, কেউ খেলছে, টেলচে হবে। বা মিলিটারিরা অনেক সময় প্র্যাকটিস করে।’ আমরা বুঝতেই পারিনি। হুট করে দেখলাম, আমার বাচ্চাটাকে টেনে দেখছি, ‘আ’ করে চেঁচাতে যাচ্ছে। আমি না বুঝতে পারিনি, কী হল? হঠাৎ কী হল?
আমি পেছনে যখন ঘুরি, তখন দেখি ডিস্টেন্সে একটা লোক রান করছে, এভাবে মেরে দিল। আমাদের পেছনে যারা ছিল, তারা এরকম করে মারলো। অনেকজন পড়ে গেল। আমি আর আমার হাজবেন্ডরা সবাই গিয়ে একটা জায়গায় বসে পড়লাম। আর পেছনে অনেকজন ছিল, তারা বলল, ‘সবাই হেড ডাউন কর, সবাই হেড ডাউন করো।’
এবার আমার বাচ্চা তো ছোট, ও তো এগুলো শুনে প্রচণ্ড আওয়াজ হচ্ছে, ও বলছে, ‘মামা, ফায়ার গান! ইট ইস পটাস সাউন্ড, ইট’স সো লাউড সাউন্ড!’ কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে এখানে একটা গুলি করে, পুরোপুরি শুধু মেনসদের ওরা টার্গেট করেছিল। ছেলেগুলোকেই মারবে। তারপরে সাইড হয়ে এখানটা গুলি করে, আর এইখানটা লাগে।

তখন দেখি, আমার হাসবেন্ড অলরেডি ডেড। অলরেডি ওর মাথা পড়ে গেছে। তখন আমি ভন্সলেস আছি, ওকে উঠানো যাবে না…”

— নিহত বিতান চক্রবর্তীর স্ত্রী রিপাবলিক বাংলাকে এই করুণ বর্ণনা দেন। উল্লেখ্য, জম্মু ও কাশ্মীরের পাহেলগামে ঘুরতে আসা পর্যটকদের ওপর সন্ত্রাসী হামলায় প্রাণ হারান পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা বিতান চক্রবর্তী।