০৩:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ২২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নবজাতকের জন্মের কতদিন পর চুল কাটতে হয়? এ দিনের করণীয় কী?

নবজাতকের জন্ম একটি আনন্দঘন ও বরকতময় মুহূর্ত। ইসলাম এই মুহূর্তকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে এবং নবজাতকের জন্য কিছু মুস্তাহাব আমল নির্ধারণ করেছে, যা সন্তান ও পরিবারের জন্য বরকত ও খুশির সূত্র হিসেবে বিবেচিত। এর মধ্যে অন্যতম হলো সপ্তম দিনে আকিকা করা, নাম রাখা ও মাথার চুল মুণ্ডন করা।

১. সপ্তম দিনে করণীয়

সন্তান জন্মের ৭ম দিন বাবার বা তার অবর্তমানে সন্তানের অভিভাবকের দায়িত্ব হলো সামর্থ্য থাকলে সন্তানের আকিকা করা, সন্তানের মাথার চুল মুণ্ডন করা এবং তার সুন্দর নাম রাখা। হাদিসে এসেছে, আল্লাহর রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন—

كُلُّ غُلَامٍ مُقْرَضٌ بِعَقِيقَتِهِ تُذْبَحُ عَنْهُ شَاةٌ فِي يَوْمِ سَبْعَةِ أَيَّامٍ وَيُسَمَّى وَيُحْلَقُ رَأْسُهُ

‘প্রতিটি শিশু তার আকিকার মাধ্যমে দায়বদ্ধ থাকে। সন্তানের পক্ষ থেকে সপ্তম দিনে পশু জবাই করা, নাম রাখা এবং মাথা মুণ্ডন করা মুস্তাহাব।’ (আবু দাউদ ২৮৩৮)

মাথার চুল মুণ্ডন করা (হালকা চুল কেটে ফেলা)

সপ্তম দিনে নবজাতকের মাথার চুল মুণ্ডন করা মুস্তাহাব বলে বিবেচিত। তবে এটি ফরজ বা ওয়াজিব নয়। সামর্থ্য বা শিশুর শারীরিক অবস্থার কারণে মুণ্ডন বিলম্ব করা যায়। উদাহরণস্বরূপ, সিজারে জন্ম নেওয়া শিশুদের চামড়া পাতলা হওয়ায় চিকিৎসকরা প্রথম মাস পর্যন্ত মাথা মুণ্ডন না করার পরামর্শ দেন।

নামের ঘোষণা

সন্তানের সুন্দর ও অর্থবহ নাম রাখা মুসলিম পরিবারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাদিসে বলা হয়েছে, নাম দেওয়ার সময় অর্থপূর্ণ ও সুন্দর নাম রাখা উত্তম।

২. চুলের ওজন অনুযায়ী স্বর্ণ বা রৌপ্য সদকা

মাথা মুণ্ডনের পর চুলের ওজনের সমপরিমাণ সদকা দেওয়ার মুস্তাহাব আমল রয়েছে। হাদিসে এসেছে—

أَعْطِ فَاطِمَةَ عَنْهُ شَعْرَهُ وَزِنَهُ بِفِضَّةٍ

‘নবজাতকের চুল কাটা বা মুণ্ডন করার পর ওজন অনুযায়ী রূপা বা স্বর্ণ সদকা করা উত্তম। শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী (রহ.) লিখেছেন, চুল কেটে সদকা দেওয়ার মাধ্যমে সন্তান তার জীবনের প্রথম অবস্থায় পদার্পণ করে এবং এটি শুকরিয়ার একটি রূপ।’ (হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগা ২/১৪৫)

৩. ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে যুক্তি

নবজাতকের সপ্তম দিনের এই মুস্তাহাব আমলগুলো শিশু ও পরিবারের জন্য বরকত ও শিক্ষা বয়ে আনে। এসময় সম্পন্ন করা কাজগুলো— আকিকা, চুল মুণ্ডন ও নামকরণ— শিশুর শরীর ও সামাজিক পরিচিতি উভয় ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে। তবে এগুলো মুস্তাহাব হওয়ায় কারো জন্য বাধ্যতামূলক নয়। অর্থাৎ, সামর্থ্য না থাকলে বা চিকিৎসকের পরামর্শে বিলম্ব করা যেতে পারে।

৪. সারসংক্ষেপ

> নবজাতকের জন্মের সপ্তম দিনে আকিকা করা, চুল মুণ্ডন করা ও নাম রাখা মুস্তাহাব।

> চুল কাটা বা মুণ্ডনের পর ওজন অনুযায়ী স্বর্ণ/রৌপ্য সদকা দেওয়া উত্তম।

> এগুলো ফরজ নয়; সামর্থ্য বা শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে বিলম্ব করা যায়।

> ইসলামের নির্দেশ অনুযায়ী এই কার্যক্রম শিশু ও পরিবারের জন্য বরকত ও খুশির উৎস।

অতএব, নবজাতকের সপ্তম দিনে এই মুস্তাহাব আমলগুলো পালন করা সন্তানের জীবন ও মুসলিম পারিবারিক ঐতিহ্যের সঙ্গে সংযুক্ত একটি সুপরামর্শিত অনুশীলন।

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

নবজাতকের জন্মের কতদিন পর চুল কাটতে হয়? এ দিনের করণীয় কী?

আপডেট সময়ঃ ১০:০০:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নবজাতকের জন্ম একটি আনন্দঘন ও বরকতময় মুহূর্ত। ইসলাম এই মুহূর্তকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে এবং নবজাতকের জন্য কিছু মুস্তাহাব আমল নির্ধারণ করেছে, যা সন্তান ও পরিবারের জন্য বরকত ও খুশির সূত্র হিসেবে বিবেচিত। এর মধ্যে অন্যতম হলো সপ্তম দিনে আকিকা করা, নাম রাখা ও মাথার চুল মুণ্ডন করা।

১. সপ্তম দিনে করণীয়

সন্তান জন্মের ৭ম দিন বাবার বা তার অবর্তমানে সন্তানের অভিভাবকের দায়িত্ব হলো সামর্থ্য থাকলে সন্তানের আকিকা করা, সন্তানের মাথার চুল মুণ্ডন করা এবং তার সুন্দর নাম রাখা। হাদিসে এসেছে, আল্লাহর রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন—

كُلُّ غُلَامٍ مُقْرَضٌ بِعَقِيقَتِهِ تُذْبَحُ عَنْهُ شَاةٌ فِي يَوْمِ سَبْعَةِ أَيَّامٍ وَيُسَمَّى وَيُحْلَقُ رَأْسُهُ

‘প্রতিটি শিশু তার আকিকার মাধ্যমে দায়বদ্ধ থাকে। সন্তানের পক্ষ থেকে সপ্তম দিনে পশু জবাই করা, নাম রাখা এবং মাথা মুণ্ডন করা মুস্তাহাব।’ (আবু দাউদ ২৮৩৮)

মাথার চুল মুণ্ডন করা (হালকা চুল কেটে ফেলা)

সপ্তম দিনে নবজাতকের মাথার চুল মুণ্ডন করা মুস্তাহাব বলে বিবেচিত। তবে এটি ফরজ বা ওয়াজিব নয়। সামর্থ্য বা শিশুর শারীরিক অবস্থার কারণে মুণ্ডন বিলম্ব করা যায়। উদাহরণস্বরূপ, সিজারে জন্ম নেওয়া শিশুদের চামড়া পাতলা হওয়ায় চিকিৎসকরা প্রথম মাস পর্যন্ত মাথা মুণ্ডন না করার পরামর্শ দেন।

নামের ঘোষণা

সন্তানের সুন্দর ও অর্থবহ নাম রাখা মুসলিম পরিবারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাদিসে বলা হয়েছে, নাম দেওয়ার সময় অর্থপূর্ণ ও সুন্দর নাম রাখা উত্তম।

২. চুলের ওজন অনুযায়ী স্বর্ণ বা রৌপ্য সদকা

মাথা মুণ্ডনের পর চুলের ওজনের সমপরিমাণ সদকা দেওয়ার মুস্তাহাব আমল রয়েছে। হাদিসে এসেছে—

أَعْطِ فَاطِمَةَ عَنْهُ شَعْرَهُ وَزِنَهُ بِفِضَّةٍ

‘নবজাতকের চুল কাটা বা মুণ্ডন করার পর ওজন অনুযায়ী রূপা বা স্বর্ণ সদকা করা উত্তম। শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী (রহ.) লিখেছেন, চুল কেটে সদকা দেওয়ার মাধ্যমে সন্তান তার জীবনের প্রথম অবস্থায় পদার্পণ করে এবং এটি শুকরিয়ার একটি রূপ।’ (হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগা ২/১৪৫)

৩. ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে যুক্তি

নবজাতকের সপ্তম দিনের এই মুস্তাহাব আমলগুলো শিশু ও পরিবারের জন্য বরকত ও শিক্ষা বয়ে আনে। এসময় সম্পন্ন করা কাজগুলো— আকিকা, চুল মুণ্ডন ও নামকরণ— শিশুর শরীর ও সামাজিক পরিচিতি উভয় ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে। তবে এগুলো মুস্তাহাব হওয়ায় কারো জন্য বাধ্যতামূলক নয়। অর্থাৎ, সামর্থ্য না থাকলে বা চিকিৎসকের পরামর্শে বিলম্ব করা যেতে পারে।

৪. সারসংক্ষেপ

> নবজাতকের জন্মের সপ্তম দিনে আকিকা করা, চুল মুণ্ডন করা ও নাম রাখা মুস্তাহাব।

> চুল কাটা বা মুণ্ডনের পর ওজন অনুযায়ী স্বর্ণ/রৌপ্য সদকা দেওয়া উত্তম।

> এগুলো ফরজ নয়; সামর্থ্য বা শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে বিলম্ব করা যায়।

> ইসলামের নির্দেশ অনুযায়ী এই কার্যক্রম শিশু ও পরিবারের জন্য বরকত ও খুশির উৎস।

অতএব, নবজাতকের সপ্তম দিনে এই মুস্তাহাব আমলগুলো পালন করা সন্তানের জীবন ও মুসলিম পারিবারিক ঐতিহ্যের সঙ্গে সংযুক্ত একটি সুপরামর্শিত অনুশীলন।