ইরানে ইসরায়েলের হামলার পর গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অপরিশোধিত তেলের দামও বেড়ে গেছে।
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং কৌশলগত একটি সমুদ্রপথ। এটি পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে এবং ইরান ও ওমানের মাঝখানে অবস্থিত।
প্রণালীটির প্রস্থ খুব বেশি নয়- সবচেয়ে সংকীর্ণ জায়গায় মাত্র ৩৯ কিলোমিটার, যার মধ্যে কেবলমাত্র দুটি সংকীর্ণ চ্যানেল দিয়ে বড় জাহাজ চলাচল করতে পারে। ছোট এই পানিপথ দিয়েই প্রতিদিন প্রায় ২০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল এবং তেল পণ্য পরিবহন করে। বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাস সরবরাহের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট পয়েন্ট।
এদিকে, ইরানে হামলার পর হরমুজ প্রণালি নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তেলের দামও বেড়েছে। যদিও হরমুজ প্রণালি দিয়ে এখনও পরিবহন অব্যাহত রয়েছে।
আন্তর্জাতিক শিপিং সমিতিগুলো ও সামুদ্রিক জাহাজ চলাচল বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ না হলেও জাহাজ মালিকদের গৃহীত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ধীরগতির ঝুঁকি তৈরি করবে। জাহাজ মালিকরা অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করছেন এবং লোহিত সাগর এবং পারস্য উপসাগর থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
এর আগে, গত ১২ জুন দিনগত রাত হঠাৎ ইরানে বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েল। ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’ নামের এই অভিযানে রাজধানী তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা, পরমাণু গবেষণা কেন্দ্র ও আবাসিক স্থাপনায় হামলা চালায় ইহুদিবাদী সেনারা।
হামলায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মোহাম্মদ বাঘেরি, দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রধান কমান্ডার হোসেইন সালামি, খাতাম আল-আনবিয়া সদরদপ্তরের কমান্ডার ও বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মেজর জেনারেল গোলাম আলি রশিদ ও ৬ জন পরমাণু বিজ্ঞানীসহ অন্তত ৭৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
নেতানিয়াহু বাহিনীর হামলার পর পাল্টা প্রতিশোধ হিসেবে শুক্রবার রাতে ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস-৩ নামে’ অভিযান শুরু করে ইরান। অন্তত কয়েক শ’ মিসাইল নিক্ষেপ করা হয়েছে। এতে ইসরায়েলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়। উভয় পক্ষের মধ্যে এখনও সংঘাত চলমান।
স্টাফ রিপোর্টার 















