০৩:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬, ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তবে কি ইরানের অনড় অবস্থানের কাছে নতি স্বীকার করলো যুক্তরাষ্ট্র?

বরাবরই ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে না দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছে ওয়াশিংটন। অথচ, মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হলো, স্বল্পমাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অনুমতি দিয়েই ইরানকে পারমাণবিক চুক্তির নতুন প্রস্তাব দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই পারমাণবিক চুক্তির লক্ষ্যে ইরানের সাথে দফায় দফায় বৈঠক করছে মার্কিন প্রশাসন। তবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইস্যুতে দুপক্ষের সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী অবস্থানের কারণে এখনও হয়নি কোন সমঝোতা। শুরু থেকেই ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ছিল যুক্তরাষ্ট্রের।

সবশেষ গত সোমবারও টুইট সোশ্যালে দেয়া পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন কোনভাবেই তেহরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে দেবে না তার দেশ। মার্কিন হুমকির তোয়াক্কা না করে বরাবরই উল্টো অবস্থান নিয়েছে ইরান। শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচী চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় দেশটি। ইরান পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হবে না। এটি যদি যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হয় তবে আমি মনে করি আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারব। কিন্তু তাদের চাওয়া যদি অবাস্তব এবং অগ্রহণযোগ্য হয় অর্থাৎ আমাদের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মক্রমের অধিকার কেড়ে নিতে চাই তবে কোন চুক্তি হবে না।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস বলছে আগের কঠোর অবস্থান থেকে সরে এসেছে ওয়াশিংটন। স্বল্পমাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অনুমতি দিয়েই ইরানকে নতুন এক অন্তর্বর্তী প্রস্তাব দিয়েছে দেশটি। অনেকেই মনে করছেন মুখে হুমকি-ধামকি দিলেও তেহরানের অনড় অবস্থানের কারণে নমনীয় হতে বাধ্য হয়েছেন ট্রাম্প।

নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্য মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি স্টিফ উইটকফের সাক্ষাৎকারিত পোস্ট অনুযায়ী ইরানকে নতুন পারমাণবিক চুল্লী নির্মাণে সহায়তাও করবে যুক্তরাষ্ট্র। সেখানে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের স্থাপনা পরিচালনার জন্য একটি যৌথ গঠনে অন্যান্য দেশের সাথে আলোচনা করবে মার্কিন প্রশাসন।

প্রস্তাবিত ওই প্রকল্পে ইরান সুফল পাওয়া শুরু করলে দেশজুড়ে থাকা অন্য সব নিউক্লিয়ার স্থাপনা বন্ধ করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক কোন মন্তব্য করেনি ইরান। কোন প্রতিক্রিয়া দেখায়নি ইসরায়েলও। বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর চুক্তি পক্ষপাতী না হলে ইরানে হামলা চালাতে পারে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দেশ।

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

তবে কি ইরানের অনড় অবস্থানের কাছে নতি স্বীকার করলো যুক্তরাষ্ট্র?

আপডেট সময়ঃ ১০:৫৫:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ জুন ২০২৫

বরাবরই ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে না দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছে ওয়াশিংটন। অথচ, মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হলো, স্বল্পমাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অনুমতি দিয়েই ইরানকে পারমাণবিক চুক্তির নতুন প্রস্তাব দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই পারমাণবিক চুক্তির লক্ষ্যে ইরানের সাথে দফায় দফায় বৈঠক করছে মার্কিন প্রশাসন। তবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইস্যুতে দুপক্ষের সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী অবস্থানের কারণে এখনও হয়নি কোন সমঝোতা। শুরু থেকেই ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ছিল যুক্তরাষ্ট্রের।

সবশেষ গত সোমবারও টুইট সোশ্যালে দেয়া পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন কোনভাবেই তেহরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে দেবে না তার দেশ। মার্কিন হুমকির তোয়াক্কা না করে বরাবরই উল্টো অবস্থান নিয়েছে ইরান। শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচী চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় দেশটি। ইরান পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হবে না। এটি যদি যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হয় তবে আমি মনে করি আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারব। কিন্তু তাদের চাওয়া যদি অবাস্তব এবং অগ্রহণযোগ্য হয় অর্থাৎ আমাদের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মক্রমের অধিকার কেড়ে নিতে চাই তবে কোন চুক্তি হবে না।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস বলছে আগের কঠোর অবস্থান থেকে সরে এসেছে ওয়াশিংটন। স্বল্পমাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অনুমতি দিয়েই ইরানকে নতুন এক অন্তর্বর্তী প্রস্তাব দিয়েছে দেশটি। অনেকেই মনে করছেন মুখে হুমকি-ধামকি দিলেও তেহরানের অনড় অবস্থানের কারণে নমনীয় হতে বাধ্য হয়েছেন ট্রাম্প।

নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্য মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি স্টিফ উইটকফের সাক্ষাৎকারিত পোস্ট অনুযায়ী ইরানকে নতুন পারমাণবিক চুল্লী নির্মাণে সহায়তাও করবে যুক্তরাষ্ট্র। সেখানে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের স্থাপনা পরিচালনার জন্য একটি যৌথ গঠনে অন্যান্য দেশের সাথে আলোচনা করবে মার্কিন প্রশাসন।

প্রস্তাবিত ওই প্রকল্পে ইরান সুফল পাওয়া শুরু করলে দেশজুড়ে থাকা অন্য সব নিউক্লিয়ার স্থাপনা বন্ধ করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক কোন মন্তব্য করেনি ইরান। কোন প্রতিক্রিয়া দেখায়নি ইসরায়েলও। বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর চুক্তি পক্ষপাতী না হলে ইরানে হামলা চালাতে পারে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দেশ।